মসলার দোকানে ফুড গ্রেড বলে ইন্ডাস্ট্রিতে ব্যবহারের রং বিক্রি, জরিমানা ২ লাখ

নিজস্ব প্রতিবেদক:
পুরান ঢাকার মৌলভীবাজারের একটি মসলার দোকান থেকে মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর ২৮ কেজি কাপড়ে ব্যবহারের রং জব্দ করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। কাপড়ে ব্যবহৃত রঙ ফুড গ্রেড বলে চকলেট, আইসক্রিম, কেক, চানাচুরসহ অন্যান্য খাদ্যসামগ্রী তৈরিতে ব্যবহারের উদ্দেশ্য বিক্রি করায় দোকানটিকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয় এবং একদিনের জন্য দোকান বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।

রবিবার নিয়মিত বাজার তদারকির অংশ হিসেবে মৌলভীবাজার এলাকায় অভিযানে যায় ভোক্তা কর্মকর্তারা। পর্বে পাওয়া তথ্য অনুসারে মেসার্স হাদিয়া এন্টার প্রাইজ নামের মসলার দোকানে যান ভোক্তা কর্মকর্তারা। এসময় দোকান মালিকের কাছে জানতে চাওয়া ইন্ডাস্ট্রিতে ব্যবহারের রং খাবার রং হিসেবে বিক্রি করছেন কি না? বা তার কাছে এই রং আছে কি না?

এমন প্রশ্নের জবাবে দোকান মালিক অস্বীকার করে বলেন, তার দোকানে কোন প্রকার ইন্ডাস্ট্রিতে ব্যবহার্য রং নেই। তিনি এক বছর পূর্বে এসব রং বিক্রি করতেন। এখন আর করেন না।

দোকান মালিকের কোথায় বিশ্বাস আনতে পারেনি ভোক্তা কর্মকর্তারা। পরে ভোক্তা অধিদপ্তরের ঢাকা জেলা কার্যালয়ের অফিস প্রধান মো. আব্দুল জব্বার মণ্ডল নিজেই সম্পূর্ণ দোকান তন্ন তন্ন করে খুঁজতে থাকেন। প্রথমে রং এর খোলা একটি কৌটা দেখতে পায় তিনি। পরে উপরের র‌্যাক থেকে ১৪ কৌটা ইন্ডাস্ট্রিতে ব্যবহার্য রং বের করেন। এসব রং রাজধানী সহ সারাদেশের বিভিন্ন মুদি দোকানে বিক্রি করা হতো।

কাপড়ে ব্যবহৃত রঙ ফুড গ্রেড বলে চকলেট, আইসক্রিম, কেক, চানাচুরসহ অন্যান্য খাদ্যসামগ্রী তৈরিতে ব্যবহারের উদ্দেশ্য বিক্রি করছেন এসব অসাধু ব্যবসায়ী।

জানা গেছে, সারাবিশ্বে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর নয় এমন কেমিক্যাল ‘ফুড গ্রেড’ খাদ্যে মেশানো হয়। কিন্তু দেশে লোকচক্ষুর আড়ালে ফুড গ্রেডের নামে প্রতারণা করা হচ্ছে প্রতিনিয়তই। অসাধু ব্যক্তিরা খাদ্যসামগ্রীতে ফুড গ্রেড ব্যবহার না করে কাপড়ের রঙ মেশায়। কিছু মানুষের প্রতারণার ফলে খাবারের নামে বিষাক্ত কেমিক্যাল খাচ্ছে সাধারণ মানুষ জানান সংশ্লিষ্টরা।

অভিযানের বিষয়ে আব্দুল জব্বার মণ্ডল বলেন, নিয়মিত বাজার তদারকির অংশ হিসেবে আজ আমরা মৌলভীবাজারে মসলার দোকানে অভিযান চালাই। আমাদের কাছে তথ্য ছিল মেসার্স হাদিয়া এন্টার প্রাইজ নামের এই মসলার দোকানে ‘ফুড গ্রেড’ বলে কাপড়ে ব্যবহারের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর রং বিক্রি করা হচ্ছে। আমরা স্ব-শরীরে এসে তার প্রমাণ পাই। দোকান থেকে ১৪ কৌটায় মোট ২৮ কেজি রং জব্দ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, কাপড়ে ব্যবহৃত রঙ ফুড গ্রেড বলে বিক্রি করার অপরাধে এই প্রতিষ্ঠানকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সেই সঙ্গে জনস্বার্থে এই দোকানকে এক দিনের জন্য বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। জব্দকৃত রং ধ্বংস করা হবে।

অভিযানে অংশ নেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. হাসানুজ্জামান।

পরে দোকানের চাবি বাংলাদেশ পাইকারী গরম মসলা ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আতিকুল হকের কাছে হস্তান্তর করেন। এবং তাকে নির্দেশনা দেয়া হয়, একদিন পর দোকান খুলে দেওয়ার জন্য।

এর আগে চানখারপুল এলাকায় মেডিপ্যাথ ডায়াগনিস্টিক সেন্টার এবং একটিভ ডায়াগনিস্টিক সেন্টারে অভিযান চালায় ভোক্তা কর্মকর্তারা।

মেডিপ্যাথ ডায়াগনিস্টিক সেন্টারে মেয়াদ উত্তীর্ণ রি-এজেন্ট পাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটিকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এবং একটিভ ডায়াগনিস্টিক সেন্টারে আলট্রাস্নোগ্রাফিতে ব্যবহার্য জেলি মেয়াদ উত্তীর্ণ পাওয়ায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এই দুটি প্রতিষ্ঠানকেই প্রাথমিকভাবে সতর্ক করে দেওয়া হয়। এ ধরনের ভুল পুনঃরায় করলে বড় শাস্তির আওতায় আনা হবে বলে জানান ভোক্তা কর্মকর্তা মো. হাসানুজ্জামান।

আরইউ